জিডিটি নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বেড়েছে ৩.৬%

বিশ্ববাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম আবার বাড়ছে।

সর্বশেষ গ্লোবাল ডেইরি ট্রেড (জিডিটি) নিলামে এ পণ্যের বাজারমূল্যে উল্লেখযোগ্য পুনরুত্থান দেখা গেছে। এ সময় দুগ্ধজাত পণ্যের গড় মূল্য ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৪ হাজার ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূলত জোরালো চাহিদার কারণে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়লেও পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। খবর ফারমারস উইকলি।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বৈশ্বিক দুগ্ধবাজারে নতুন করে চাঙ্গা ভাব ফিরে এসেছে। বিশ্বের প্রধান রফতানিকারক অঞ্চলগুলোয় দুধ উৎপাদন বেড়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় বাড়তি সরবরাহের চাপ সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে। পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলে নিউজিল্যান্ডের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ফনটেরা তাদের ২০২৫-২৬ মৌসুমের জন্য ‘ফার্মগেট মিল্ক প্রাইস’ বা সংগ্রহের মূল্য পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি কেজি মিল্ক সলিডের (কেজিএমএস) গড় দাম ৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৯ ডলার ৫০ সেন্ট নির্ধারণ করেছে।

নিউজিল্যান্ডে জানুয়ারিতে দুধ উৎপাদন বেশ ভালো ছিল। দেশটিতে এ সময় ২১ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার কেজি মিল্ক সলিড সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি, যা জানুয়ারিতে উৎপাদনের নতুন রেকর্ড। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত দেশটির উৎপাদন আগের মৌসুমের চেয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এগিয়ে রয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের পাশাপাশি অন্যান্য প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলেও সরবরাহের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ দশমিক ২ শতাংশ উৎপাদন বেড়েছে। একই সময় আর্জেন্টিনায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ, উরুগুয়েতে ৭ দশমিক ৫ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোও উৎপাদনে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছে। বিশেষ করে জার্মানিতে ৭ দশমিক ৫ এবং ফ্রান্সে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ উৎপাদন বেড়েছে।

বিশ্ববাজারে দুধের সরবরাহ বাড়লেও আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা দেখা গেছে। ৩৯৭তম জিডিটি নিলামে পণ্যগুলোর মূল্যসূচক ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছিল। এর পরের অর্থাৎ ৩৯৮তম নিলামেও দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। সর্বশেষ নিলামেও চড়া দামের এ ধারা বজায় ছিল। এ সময় মাখনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এছাড়া ননিযুক্ত ও ননি ছাড়া গুঁড়া দুধের দামও বেশ চড়া ছিল। তবে এ সময় চেডার পনিরের দাম কিছুটা কমতে দেখা গেছে।

নিউজিল্যান্ডের রফতানি চিত্র অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দুগ্ধজাত পণ্যের রফতানির পরিমাণ ও মূল্য উভয়ই ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের রফতানি কমেছে ৫ শতাংশ। তবে চীনে পণ্যটির রফতানি ২ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ননি ছাড়া গুঁড়া দুধের রফতানি বেড়েছে ৭ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, জানুয়ারির তথ্যে চাহিদার কিছুটা ঘাটতি দেখা গেলেও ফেব্রুয়ারির নিলামে ক্রেতাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ করা গেছে। বর্তমানে দাম বাড়ার এ ধারা বজায় থাকলে মার্চ নাগাদ রফতানি পরিস্থিতি আরো ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও